এবার বাসায় ঢুকে তাইওয়ানি দম্পতিকে কুপিয়ে যখম

asdgaষ্টাফ রিপোর্টার ::রাজধানী ঢাকার উত্তরায় বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় ঢুকে এক তাইওয়ানি দম্পতিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। যাওয়ার সময় বাসা থেকে দুর্বৃত্তরা ছয় লাখ টাকাও নিয়ে যায়। ওই দম্পতি বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত দম্পতি হলেন ওয়াং লি চি (৬৮) ও তার স্ত্রী লিলি হুয়া (৬০)। চিকিৎসকরা বলছেন, লিলি আশঙ্কামুক্ত। তবে ওয়াংয়ের অবস্থা গুরুতর।
পুলিশ কর্মকর্তা ও দম্পতির পরিচিতজনরা জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে আছেন ওয়াং ও লিলি দম্পতি। গাজীপুরের বড়বাড়ী এলাকায় তাদের ‘জিং জিং ইয়াং ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি’ নামের প্লাস্টিকের দরজা তৈরির একটি কারখানা আছে। উত্তরার চার নাম্বার সেক্টরের ১৪/এ সড়কে একটি তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকেন তারা। বাড়ির নিচতলা ও দোতলায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যালয়।
পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ওয়াং ও লিলি ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির কলাপসিবল ফটক ও বাসার দরজার তালা খুলে ওই ব্যক্তিরা ভেতরে ঢুকে পড়েন। শব্দ পেয়ে জেগে ওঠেন লিলি। তখন ওই ব্যক্তিদের একজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে লিলির মাথার সামনে আঘাত করেন। স্ত্রীর চিৎকারে ওয়াংও জেগে ওঠেন। তখন তার ওপরও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ওয়াংয়ের মাথার পেছনে গুরুতর জখম হয়।
দম্পতিকে আহত করে ওই ব্যক্তিরা বাসায় থাকা ছয় লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায়। আহত অবস্থায় কোনোমতে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে ফোন করেন ওয়াং। ওই কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রাতেই ওই বাসায় ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর গাজীপুর থেকে জাহাঙ্গীর নামের একজনকে আটক করে পুলিশ।
হাসপাতালে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরা সাংবাদিকদের বলেন, চুরিতে বাধা দেয়ায় ও চিনে ফেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আহত দম্পতির সঙ্গে কথা বলে ঘটনায় জড়িত দুজনের নাম পাওয়া গেছে। তবে গ্রেপ্তারের আগে তাদের নাম বলা যাচ্ছে না।
বিধান ত্রিপুরা বলেন, ব্যবসায়িক কারণে হামলাকারীরা ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে কোনো এক সময় তারা ওই বাসার কলাপসিবল ফটকের তালা ও বাসার দরজার কোনো বিকল্প চাবি তৈরি করে নিয়েছিলেন। বাড়িতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় এ সুযোগ নিয়েছেন তারা।
আটক হওয়া জাহাঙ্গীরের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ডিসি। তবে দম্পতির প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, জাহাঙ্গীর ওই দুই কর্মচারীর আত্মীয়।
গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ ও গণমাধ্যমের কর্মীরা ছাড়াও সেখানে দম্পতির ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিচিতজনদের ভিড়।
তবে দম্পতির প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক সামির হাসিব সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আহত দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, রাজু ও সাজু নামের তাদেরই দুই কর্মচারীসহ তিনজন ওই বাসায় চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশে ঢুকেছিলেন। লিলি জেগে উঠে তাদের দুজনকে চিনে ফেলায় তারা হামলা করে বসেন। সামির বলেন, রাজু ও সাজু আগে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তারা চুক্তিভিত্তিক কাজ করছিলেন। তৈরি করা প্লাস্টিকের দরজার ওপর প্রিন্ট করা ছিল তাদের কাজ।
সামির বলেন, তাইওয়ানি দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা তাইওয়ানে থাকেন। হামলার খবর পেয়ে তারা বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দম্পতির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাপোলো হাসপাতালের কর্তব্যরত ব্যবস্থাপক (ডিউটি ম্যানেজার) সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াংয়ের আঘাত গুরুতর। তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। দম্পতিকে হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দেবর-ভাবির পরকীয়ায় খুন হন বড় ভাই

ষ্টাফ রিপোর্টার :: রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় দেবর-ভাবির পরকীয়ায় বলি হন মনিরুজ্জামান ...