ব্রেকিং নিউজ

একজন সংসদ সদস্য এবং প্রত্যাশার ব্যাপ্তী

Ramgatiসারোয়ার মিরন :: রামগতি-কমলনগর নিয়ে লেখালেখি করাটা মারাত্মক রিস্কের ব্যাপার। সাথে গালাগাল আর যুক্তিহীন সমালোচনা তো আছেই। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে লেখালেখি থেকে বিরত থাকলেও নিম্নোক্ত বিষয়টি নিয়ে আর না লিখে পারলাম না।

রামগতি-কমলনগর উপজেলার গন মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রায় দুইশত কোটি টাকার প্রকল্পে মেঘনার ভাংগন রোধে কাজ চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস ইঞ্জিনিয়ারিং টীম কাজটির পুর্নাঙ্গ তদারকিতে জোরেশোবে কাজ এগিয়ে চলছে। স্থানীয় জনগনের দাবি অনুযায়ী মেঘনার ভাঙ্গন রোথে সব কাজ গুলো করেছেন সংসদ সদস্য জনাব মো: আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর প্রতি রইলো আজন্ম কৃতজ্ঞতাবোধ।

রামগতি উপজেলার টাংকির বাজার থেকে কমলনগর উপজেলার শেষ পর্যন্ত প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার মেঘনা উপকুল প্রায় সবটা প্রতিনিয়তই মেঘনা গর্ভে বিলীন হচ্ছে। পুরো এলাকাতেই রয়েছে ব্যাপক জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। ভাঙ্গন থেকে সব এলাকা রক্ষা করতে হবে দ্রুত এমনটিই সবার একান্ত দাবি। কিন্তু বাস্তবের ভিত্তিতে একটু আলোচনা করা যাক আসলেই কি এ বিশাল এলাকা তীব্র এ ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা সম্ভব কিনা? কিভাবে সম্ভব হবে বিস্তীর্ন এ এলাকা ভাংগন প্রতিরোধ করে টিকিয়ে রাখা?

আবদুল্লাহ আল মামুন। ছিলেন ব্যবসায়ী তথা শিল্পপতি। সংসদ সদস্য হয়েছেন রামগতি-কমলনগরের মতো দারিদ্র্য পীড়িত ও নদী ভাংগন কবলিত এ এলাকার। দীর্ঘ দিনের চাপা পড়া ভাংগন প্রতিরোধ প্রকল্পটির জন্য বহু চেষ্টা ও দেন দরবার করে বরাদ্দটি এনেছেন। উপজেলা দুটির জনগনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের স্থান নির্ধারন করা নিয়ে রামগতি-কমলনগর উপজেলা দুটিতে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের। খোদ রামগতিতেই দু পক্ষ।

রামগতি থেকে কমলনগর। পুরো ভাংগন কবলিত উপকুল আমি সরেজমিনে ঘুরেছি। প্রকল্প এলাকা ঘুরেছি। কথা বলেছি বিভিন্ন শ্রেনি পেশার লোকের সাথে। জানতে চেয়েছি তাদের মনোভাব। রামগতি উপজেলার পৌর এলাকার মানুষ উক্ত কাজে ব্যাপক খুশি। রামগতি বাজারের মানুষের কষ্ট মোট কাজের মাত্র এক কিলোমিটার তাদের দেয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি এখনো। ক্ষোভে আছে কমলনগরের জনগন। সেখানেও মাত্র এক কিলোমিটার।

এবার একটু চলমান কাজের দিকে তাকানো যাক। প্রাপ্ত বরাদ্ধে কাজ হবে মোট সাড়ে পাঁচ কিমি’র। রামগতির আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কিমি, কমলনগরে এক এবং রামগতি বাজারে এক কিমি। ক্ষোভের কারন এখানেই। কমলনগরের মানুষ ভাবে একটি পুরো উপজেলা হলেও এখানে মাত্র এক কিমি কাজ। রামগতি অঞ্চলের মানুষেরও ভাবনা তাই।

আমি বিশ্বাস করি কিংবা মনে প্রানে চাই পুরো ভাংগন কবলিত এলাকাটাই ভাংগনমুক্ত হোক। পুরো রামগতি কমলনগরও বাঁচুক। কিন্তু আমি বা আমরা চাইলেই কি তা সম্ভব? কিংবা এক আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে কি করা সম্ভব!

পুরো ভাংগন কবলিত এলাকা দেখে আমার এ ধারনা জন্ম নিয়েছে যে, এ বিস্তীর্ন এলাকা রক্ষা করা মোটেও সম্ভব না। সরকার কিংবা দেশ এতো বিশাল বাজেট কিংবা অর্থ কোনটাই এখানে বরাদ্ধ দেবে না। সুতরাং মামুন সাহেব চাইলেও তা কখনোই সম্ভব হবে না। পারার কথাও না। এ বাস্তব ও সত্য জিনিসটাই আমাদের মেনে নিতে হবে।

Ramgatiপুরোটা যেহেতু তাঁর কিংবা কারো পক্ষেই কাজ করা সম্ভব না। তাহলে মামুন সাহেবের কি করা উচিত বা তিনি কি করতে পারতেন কিংবা বর্তমানে কি করছেন? সামান্য বরাদ্ধে যা করা সম্ভব ছিলো মামুন সাহেব তা ঠিক ভাবে বন্টন তথা তার দায়িত্ব তিনি শতভাগ সঠিক ভাবেই পালন করেছেন বলে আমার বিশ্বাস। যেহেতু বরাদ্ধ সামান্য সেহেতু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে। সে বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে কার্য এলাকা বন্টিত হয়েছে। আর এ বিবেচনায় আলেকজান্ডার এলাকা কাজ বেশি পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা মেঘনার ভাঙ্গনে এ যাবতকাল ধরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রামগতি এ অঞ্চলটি।

সুদুর গাবতলি সেবাগ্রাম থেকে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন রামগতি উপজেলার কোনায় এসে ঠেকেছে। রামগতি পৌরসভার পুরোটাই ভাঙ্গনের মুখে। আলেকজান্ডার টু সোনাপুর সড়ক, রামগতি উপজেলা হাসপাতাল, সেবাগ্রাম ফজলূর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, রামগতি উপজেলা চত্ত্বর, রামগতি পৌরসভা, আলেকজান্ডার মহিলা কলেজ, আসম আবদুর রব সরকারি কলেজ, আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসা, আলেকজান্ডার পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যাপক জনবসতি আসন্ন বর্ষায় বিলীন হয়ে যেতে পারে। যে কেউ এ এলাকা পরিদর্শন করলে সহজেই বুঝতে পারবেন।

যতদুর জানি মো: আবদুল্লাহ আল মামুন সাহেব নিজের টাকা দিয়েই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এখনো বরাদ্ধের টাকা ছাড় পায়নি। মূলত তিনি চেয়েছেন কাজটি শুরু হোক। খুব সামান্য এলাকা হলেও রামগতি বাঁচুক। তাঁর সে চাওয়া থেকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। আর এ বাস্তব সত্যটা সকলকে মেনে নিতে হবে। এখানে এলাকা প্রীতি বা কাউকে বঞ্চিত করার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, মেঘনার ভাঙ্গন রোধের এ প্রকল্পটি বারোশত কোটি টাকা কাজ। কাজ হবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে। সেনাবাহিনী এখানে প্রকল্প সময়ের পুরোটার জন্য ক্যাম্প করেছেন। এ প্রকল্পে কাজ হবে নদী ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ, পুনর্বাসন, রক্ষনাবেক্ষন ইত্যাদি সেক্টরে। সুতরাং ধরে নেয়া যেতে পারে রামগতি কমলনগরের পুরোটা এলাকা জুড়েই কাজ হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ হতে থাকবে। কোন পক্ষকেই হতাশ না হয়ে বাস্তবতা যুক্তি নির্ভর হওয়ার অনুরোধ জানাই। রামগতি কমলনগরের নানামুখী সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আবদুল্লাহ আল মামুন ব্যাপক আন্তরিক। তাঁকে সময় দিতে হবে। আর অপেক্ষা করতে হবে সেসব শুভ সময়ের জন্য। রাগ বিরাগ কিংবা ক্ষোভ কোন ভাবেই কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

লেখক: রামগতি বাসী, ০১৮১৯-০২১৯১৪, ইমেইল: sarwarmiran87@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এএইচএম নোমান

সত্তর’র ভয়াল ১২ নভেম্বর: ধ্বংস থেকে সৃষ্টি

এএইচএম নোমান :: ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর গভীর রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা ...