ব্রেকিং নিউজ

উপকূলের শিক্ষা-২: পাঠদানের ধরণ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় স্কুলগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

উপকূলের শিক্ষামিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :: পাঠদানের আধুনিকতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় পটুয়াখালীর উপকূলের শিক্ষার্থীরা স্কুলগামী হচ্ছে । চার-পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা সকাল হলেই বাবা-মায়ের হাত ধরে কেউবা একা একাই ছুটে আসছে স্কুলে। হাসি-খুশি, আনন্দ ও খেলার ছলে শব্দ পরিচিতি ও পড়াশোনার আধুনিক সরঞ্জাম শিশুদের স্কুলগামী করছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুমের অভাবে প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা এখনও অবহেলিত থাকলেও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে তাদের পড়ানো হচ্ছে  মাতৃস্নেহে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি ১৭১টি, বেসরকারি ৬৭টি প্রাকপ্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের সাত সহশ্রাধিক শিক্ষার্থী বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই। এ কারনে সরকারি স্কুলগুলোতে এখনও ক্লাস শুরু না হলেও বছরের প্রথম দিন থেকে।

মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে শিক্ষকতা করছেন উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামের “সোনামনি” শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’র গৃহবধু রঞ্জিতা। বছরের প্রথম দিনেই এ শিক্ষা কেন্দ্রে ২৬ শিশু প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয়েছে। এ কেন্দ্র’র মতো এফএইচ পরিচালিত সাতটিসহ বেসরকারি প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে। একজন শিক্ষক (সেবিকা) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ক্লাস নিচ্ছেন আগামী ভবিষত প্রজন্মকে বর্ণমালার সাথে পরিচিত করতে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনি লাল সিকদার জানান, সরকারি ১৭১ টি বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক ক্লাস হলেও মাত্র ২৭ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। এখনও ১৪৪ টি বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকে ক্লাসের জন্য শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এসব স্কুলের শিক্ষকদের ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে বর্তমানে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এ কারনে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষায় চলছে হ য ব র ল অবস্থা।

পক্ষিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আঃ রাজ্জাক জানান, ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাক প্রাথমিকের পাঠ্যবই পান নি। অথচ স্কুলে ইতিমধ্যে ১২ জন ভর্তি হয়েছে। চাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নুরুন্নবী জানান, প্রাক প্রাথমিকে ২৩ জন ভর্তি হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির নতুন পাঠ্য বই পেলেও প্রাক প্রাথমিকের বই পান নি। এ অবস্থা উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

নতুনপাড়া গ্রামের অভিভাবক খলিলুর রহমান, মোয়াজ্জেম মিয়া, রাশিদা বেগম জানান, শিক্ষার প্রথম ধাপ হলো প্রাক প্রাথমিক। অথচ এই শিশুদেরই অবহেলা করা হচ্ছে। তাঁদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন কিন্তু বইয়ের অভাবে তাদের ক্লাস শুরু হয়নি। এটা কেমন নিয়ম এ প্রশ্ন তাঁদের।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, এখনও অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রাথ প্রাথমিকের ক্লাসরুম আধুনিকায়ন হয়নি। ভবন সংকট ও ক্লাস রুমের অভাবে শিশুদের ক্লাস হচ্ছে ভবনের নিচে হোগলা বিছিয়ে। শুধু ব্যতিক্রম বেসরকারি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এগুলো পাকা ভবন না হলেও ছোট্র টিনসেড ঘরে সব কিছুই পরিপাটি। যা শিশুদের কাছে এক ভিন্ন জগৎ।

এসব বিদ্যালয়ে ছবির মাধ্যমে বর্ণমালা পরিচয় থেকে ফুল, ফলের ছবি দিয়ে বোঝানো হচ্ছে শিশুদের। বাংলা,ইংরেজি দুই ধরনের ফ্লিপ চার্ট টানিয়ে রাখা হয়েছে। রয়েছে খেলার উপকরণ। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়ায় এসব বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ৯০ ভাগের উপরে।

সোনামনি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা রনজিতা জানান, কয়েক বছর আগেও গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলে পাঠানো হতো না। কোন কোন পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদের শুধু নাম সাক্ষর শিখিয়ে আর্থিক সংকটে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে শ্রম পেশায় নিযোজিত করতো। সময় এখন পাল্টেছে। শহরের মতো এখন অনেক গ্রামে পাঁচ-সাত বছরের শতভাগ শিশু এখন স্কুলে যায়। তেমনি একটি গ্রাম নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর। (চলবে)

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার :: রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ...