ইজিপিপি প্রকল্পে অনিয়মের মহোৎসব

৬ নম্বর ওয়ার্ড পবনসার চুন্নু মাদব

৬ নম্বর ওয়ার্ড পবনসার চুন্নু মাদবরের বাড়ি হতে ইসমাইল সুন্সীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মনে ৫৬ জন শ্রমিকের স্থলে সরদার সহ ১২ জন শ্রমিক কাজ করছে।

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাড়েরপাড়া ইউনিয়নে সঠিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অভাবে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্প ব্যহত হচ্ছে। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই কোন রকম দায়সারা ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকল্প কমিটির চেয়রম্যানরা।

আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসব অনিয়ম দেখেও দেখছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা নির্দিষ্ট একটি পার্সেন্টিস আদায় করে অফিসে বসেই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৭ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্প ঘুরে এ সকল অনিয়ম ও অভিযোগ প্রত্যক্ষ করা গেছে।

জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলায় গত ২৯ এপ্রিল থেকে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪০ দিনের কাজ চলছে। নাগের পাড়া ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি প্রকল্পের ৩৩৮ জন শ্রমিক ধরা হয়েছে। দৈনিক ২০০ টাকা মজুরী হিসেবে ৪০ দিনে এই শ্রমিকদের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ২৭ লাখ ৪ হাজার টাকা। আর যে সকল সরদারগন শ্রমিক পরিচালনা করবেন তাদের জন্য সরর্দারী ভাতা বরাদ্দ রয়েছে ১৮ হাজার টাকা।

নিয়ম রয়েছে স্থানীয় উপকার ভোগী দরিদ্রদের দিয়ে সপ্তাহের শনি থেকে বুধবার পর্যন্ত এই কাজ চলবে এবং ৩৩ শতাংশ নারী শ্রমিক থাকতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিকের নামে ব্যাংকে একাউন্ট থাকবে এবং সেই একাউন্টের মাধ্যমে তাদের বিল পরিশোধ করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে এসব নিয়ম কানুনের কোনটাই মানছেন না প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যানরা। প্রকল্প এলাকায় কাজের নিয়মাবলী সংক্রান্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করার নিয়ম থাকলেও কোথা সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি।

গত শনি ও রবিবার ইউনিয়নের মালংচড়া আ. অহেদ সরদারের বাড়ি হতে পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা পুননির্মাণে ২৮ জন শ্রমিকের বিপরীতে কোন শ্রমিক কাজ করতে দেখা যায়নি। আ. ওহেদ সরদার জানায় মেম্বার নজরুল এ কাজ করায়। পিআইও ম্যাডাম এসেও কোন শ্রমিক পায় নাই।

গত ২৮ মে রবিবার কাচারী বাজার হতে মহিলা মাদ্রাসা হয়ে তালগাছ পর্যন্ত রাস্তা পুননির্মাণে ৩০ জন শ্রমিকের স্থলে সরদার সহ ১০ জন শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে। তখন শ্রমিক কামাল জানায়, গতকাল পিআইও ম্যাডাম এসে ৬ জন শ্রমিক দেখেগেছে। সে তো কিছুই বলেনাই। আপনারা বলেন শ্রমিক কম।

৮ নম্বর ওয়ার্ড প্রকল্প নাগেরপাড়া হুমায়ুন পেদার বাড়ি হতে দাদন ফকিরের  বাড়ি হয়ে জামাল ঢালীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মানে ৫৬ জন শ্রমিকের স্থলে গত শনি ও রবিবার কোন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায় নাই। দাদন ফকিরের সাথে আলাপ কলে জানায়, রোজা রাখছি কোন মিথ্যা বলবো না।

আমার বাড়ির রাস্তায় ৮/৯ জন শ্রমিক ৪ দিন কাজ করছে। আমিও সাথে কাজ করছি। গতকাল সোমবার প্রকল্প এলাকায় গিয়ে শ্রমিক সরদার সহ ১২ জন শ্রমিক কাজ করতে দেখা যায়। শ্রমিক সরদার জানায় শনি ও রবিবার কাজ করিনি আজ ১২ জনে কাজ করি।

৭ নম্বর পূর্বেরচর আবুল বেপারীর বাড়ি হতে উত্তর হলইপট্টি কামাল সরদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুননির্মাণে ২৮ জন শ্রমিকের বিপরীতে কোন শ্রমিক কাজ করেনি। শ্রমিক সরদার আ. রবের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ৭-৮ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ করে সে তবে ২৭, ২৮ মে (শনি ও রবিবার) কোন শ্রমিক কাজ করেনি।

১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন ছয়গাঁও হাজী আ. রশিদ সড়কের শুরু থেকে ছালাম ঢালীর বাড়ি হয়ে খালপাড় পর্যন্ত রাস্তা পুননির্মাণে ৫৬ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১১ জন শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে। শ্রমিক সরদার মফেজ কবিরাজ জানায়, সরদার ও মেম্বার সহ মোট ১৩ জন শ্রমিক আছে। তখন প্রকল্প চেয়ারম্যান বজলু গাজি বলেন, শ্রমিকের মজুরী বেশী তাছাড়া ধান কাটার কারনে শ্রমিক বেশী পাওয়া যায় না। সব দিনতো আর শ্রমিক সমান থাকে না। আপনারা আসছেন ভালো হয়েছে, সচিবের সাথে দেখা করে যাবেন।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকরহাটি মালেক কারিকরের বাড়ি হতে আবুল কারিকরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুন নির্মানে ২৮ জন শ্রমিকের স্থলে কোন শ্রমিক কাজ করতে দেখা যায়নি। প্রকল্প এলাকার লোকমান ও ওয়াজেদ কারিকর জানায় বৃষ্টির পর থেকে রাস্তায় কোন কাজ হয়নি। প্রায় ৭-৮ দিন কাজ বন্ধ।

৬ নম্বর ওয়ার্ড পবনসার চুন্নু মাদবরের বাড়ি হতে ইসমাইল সুন্সীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মনে ৫৬ জন শ্রমিকের স্থলে সরদার সহ ১২ জন শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে। একই প্রকল্পের লহ্মিপুর আলী আকবর খার বাড়ি হতে মোস্তফা খার বাড়ি কাঠের ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা পুন নির্মানে কোন শ্রমিক কাজ করতে দেখা যায়নি। তখন কথা হয় মোস্তফা খা ও আজাদ খার সাথে, তারা জানায় সপ্তাহ খানেক পূর্বে ৪ জন করে শ্রমিক কয়েক দিন কাজ করছে। এ রাস্তায় এখন আর কেউ কাজ করে না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, প্রকল্প এলাকায় গিয়ে অনিয়ম পেলে বিল কেটে দিব। গত সপ্তাহে ইদিলপুরের বিল কেটে দিয়েছি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে কাজ করলে হয়তো বিল দেয়া যেতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা

ষ্টাফ রিপোর্টার :: দেশে বর্তমানে ঋণখেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ ...