আসুন শীতার্তদের পাশে দাঁড়াই

শীতার্ত শিশুসামিউল আলম তোষণ :: ছেঁড়া কাঁথাটা মুখের উপর টেনে ধরলেই জসিমের পা দু খানি খালি হয়ে যায়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় তখন পা জ্বলতে থাকে। একসময় অবশ মনে হয় পা দুটিকে।

এই ছেঁড়া কাঁথাটা সে কুড়িয়ে পেয়েছিলো ২ বছর আগে কোন এক শীতের রাতে শহরের এক আকাশচুম্বী দালানের সামনের ময়লার স্তূপ থেকে।

প্রতিদিন ভোরে কাঁথাটাকে সযত্নে লুকিয়ে রেখে কনকনে শীতের মাঝে ৩টা পাতলা জামা গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে পড়ে পত্রিকা বিক্রির উদ্দেশে। আর রাত হলে ছেঁড়া বন্ধুকে আলিঙ্গন করে ঘুমিয়ে পড়ে জসিম।

শাহিনার এই ফ্রগ টা তার অনেক প্রিয়। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথার পাশেই ফ্রগ টা পেয়ে যায় সে। এভাবে কোন এক শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটি রঙ্গিন চাদর পেয়ে যাওয়ার কথা ভাবে সে। চাদর পড়ে পুরো শহর ঘুরে বেড়াবে।

সারাদিন ফুল বিক্রি করে হৈ চৈ করে কাটিয়ে দিলেও রাত হলেই চিন্তায় পড়ে যায়। একটু মোটা কোন জামা তার নেই। ফুল বিক্রির টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

গাদাগাদি করে ওর মতন আরও ৭ জন তারা একসাথে ঘুমিয়ে পড়ে পার্কের এক কোনে। সবার গায়ে একটি পাতলা কম্বল। একপাশ থেকে কেউ টানলেই আরেকপাশ খালি। ঘুম হয় অল্প কিছুক্ষন। বাকি রাত শুধুই কম্বল টানাটানি।

প্রতি বছরেই শীতের সময় মানুষের বাড়ি গিয়ে গিয়ে আর ভিক্ষা করে কিছু কাপড় জোগাড় করে আব্বাস মিয়াঁ। এর কিছু বিক্রি করে আর কিছু রেখে দেয় নিজে পড়ার জন্য।

Child Foundationতার আপন বলতে এই পৃথিবীতে একখানা পুরনো জ্যাকেট, একটি ছেঁড়া কম্বল আর ভিক্ষার থালা। তাও জ্যাকেট আর কম্বল কিছুদিন আগে হারিয়ে ফেলেন তিনি। ইদানিং পায়ের ব্যাথাটা বেশি। ভিক্ষা করাও অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সামনের শীতে একটা মোটা কাপড় না পেলে বাঁচার আশা ছেঁড়েই দিয়েছেন।

জসিম, শাহিনা কিংবা আব্বাস মিয়াঁরা রাজধানী ঢাকায় আমার আপনার পাশেই ঘুরোঘুরি করে এরা। আমরা তাদের দেখেও না দেখার ভান করি। আমাদের মনে তাদের জন্য আঘাত লাগলেও তা ভুলে থাকার চেষ্টা করি।

আমরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করি আরও একটু আয়েশ করে বেঁচে থাকার। আর তারা যুদ্ধ করে শুধু বেঁচে থাকার জন্য। প্রান টা যাতে না চলে যায়।

প্রচণ্ড শীতে এমন হাজারো মানুষের আকুতি আমরা শুনতে পাই, দেখতে পাই। কিন্তু এখানেই কি শেষ? আমরা কি কিছুই করতে পারিনা? ৫ কোটি মানুষ ৫ টাকা করে দিলেও আমরা পেতে পারি ২৫ কোটি টাকা। প্রয়োজন শুধু ইচ্ছার, এগিয়ে আসার, বিবেকের তাড়নায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠার।

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার লক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারো “Child Bangladesh Foundation” শীতবস্ত্র বিতরণের কর্মসূচী গ্রহন করেছে। আপনার পাঠানো শীতবস্ত্র কিংবা নগদ অর্থ ইন শা আল্লাহ পৌঁছে দেয়া হবে ঢাকা অথবা ঢাকার বাইরে শীতার্তদের মাঝে।

সহায়তা পাঠাবার ঠিকানা:
Bkash, Ucash, DBBL : 01953703730

অথবা,
Samiul Alam Toshon
Account No: 105101512936

Dutch Bangla Bank Limited
Motijheel Foreign Exchange Branch

অথবা,

Contact:
01953703730
01689225060
01676806969
01720280527

childbangladesh@gmail.com
www.cbf.org.bd

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডে-কেয়ার আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে: চুমকি

ডে-কেয়ার আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে: চুমকি

স্টাফ রিপোর্টার :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ...