ব্রেকিং নিউজ

আসক্তি কমাতে জার্মানির নতুন কৌশলপত্র

নেশা, তা সে যে ধরণেরই হোক না কেন পরিত্যাজ্য৷ জার্মানিতে এই নেশার আপদ বাড়ছে৷ আর তা নিয়ে জার্মান সরকারের চিন্তার শেষ নেই৷ এমনকি অভিবাসীদের মধ্যেও এই নেশা ছড়িয়ে পড়েছে৷

অনেক রকম নেশাতেই এখন জার্মানির সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে৷ এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, ধূমপান, মাদক, কম্পিউটার গেমস এমনকি ইন্টারনেট পর্যন্ত৷ জার্মান সমাজ বিজ্ঞানীরা তাই ভাবছেন কীভাবে এইসব নেশা দূর করা যায়৷ ইতিমধ্যে জার্মানির সরকার নেশার হাত থেকে জনগণকে বাঁচানোর জন্য একটি জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করেছে৷

এইসব আসক্তির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যেটা, সেটা হলো অ্যালকোহল৷ এই সমস্যা জার্মানিতে আগেও ছিল এখনও রয়েছে৷ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অ্যালকোহল পান করা হয় যেসব দেশে, জার্মানি তার মধ্যে অন্যতম৷ অ্যালকোহল শুধু নেশার সমস্যা হলেও যথেষ্ট ছিল, কিন্তু এর কারণে সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি হচ্ছে৷ জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিনটি অপরাধের একটি সংঘটিত হচ্ছে মদ্যপান ঘটিত কারণে৷ এছাড়া প্রতি বছর জার্মানিতে অ্যালকোহল সংশ্লিষ্ট অসুস্থতার পেছনে খরচ হচ্ছে ২৬৭ বিলিয়ন ইউরো৷ জার্মান কৌশলপত্র অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে মদ্যপানের হার কিছুটা কমে আসলেও এটাই এখন এক নম্বর সমস্যা৷ তবে বয়স্করা যেমন মদ্যপানের খারাপ দিক সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে, তরুণদের মধ্যে ঘটছে তার উল্টোটা৷ বিশেষ করে টিনেজারদের মধ্যে অ্যালকোহল প্রীতি দিন দিন বাড়ছে৷ জার্মানিতে ১৬ বছর বয়স হলেই যে কেউ বিয়ার এবং ওয়াইন কিনতে পারে৷ তবে হুইস্কির মত কড়া অ্যালকোহল কেনার অনুমতির জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ১৮ হওয়া পর্যন্ত৷ জার্মান কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার জন্য সম্প্রতি প্রচারণা শুরু করেছে৷ জার্মানির ড্রাগ কমিশনার মেশ্টহিল্ড ডিকমান্স বলেছেন, মদ্যপান থেকে টিনেজারদের রক্ষার জন্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে৷

দ্বিতীয় যে সমস্যাটি এখন জার্মানিতে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সেটি হলো ধূমপান৷ তবে আশার কথা হলো, টিনেজারদের মধ্যে ধূমপানের হার দিন দিন কমছে৷ এমনকি এটা গত কয়েকবছরে মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে৷ তবে কর্তৃপক্ষ আরও বেশ কিছু দিক খুঁজে পেয়েছেন যেটি তাদের শঙ্কিত করে তুলেছে৷ তার একটি হলো ইন্টারনেট আসক্তি৷ বিশেষজ্ঞরা দেখছেন জার্মান কিশোর কিশোরীরা ঘন্টার পর ঘন্টা ইন্টারনেটে সময় কাটাচ্ছে৷ এবং এজন্য তাদের বাড়িতে কিংবা ক্যাফেতে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে না৷ অত্যাধুনিক মোবাইলের কল্যাণে তাদের হাতের কাছেই রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ৷ কর্তৃপক্ষের হিসাব মতো, দেশে আড়াই লাখের মত ইন্টারনেট আসক্ত রয়েছে যাদের বয়স ১৪ থেকে ২৪ বছর৷ তবে এই আসক্তিকে এখনও অসুস্থতার পর্যায়ে ফেলতে চাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা৷

এর বাইরে আরও একটি সামাজিক সমস্যা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে জার্মানিতে৷ সেটি হলো মাদক গ্রহণ এবং অভিবাসীদের মধ্যে এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে৷ দেখা গেছে, রুশ বংশোদ্ভূত তরুণ তরুণীদের মধ্যে আফিম জাতীয় মাদক গ্রহণের প্রবণতা বেশি৷ অন্যদিকে মুসলিম দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তানদের মধ্যে অ্যালকোহল পান এবং গাঁজা সেবনের প্রবণতা বেশী দেখা গেছে৷ এছাড়া বিদেশী বংশোদ্ভূতদের মধ্যে জুয়া খেলার প্রতি আসক্তিও একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে৷ এদের অনেকেই জার্মান ভাষায় দুর্বলতার কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় না৷ জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব সমস্যা দূর করতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে৷
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/নিউজ ডেস্ক
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গরম পানি পানে ১০ উপকার

নিউজ ডেস্ক :: পানি পানে অনেক উপকার তা আমরা সবাই জানি। তবে ...