আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র খাগড়াছড়ি

গুলিবর্ষণ,ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,আহত-১৯আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ,ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে খাগড়াছড়ি।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঠিয়ে ৫ রাউন্ড ফায়ারিং করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সমর্থিত গ্রুপের অনুসারী যুবলীগের মেহেদী হাসান হেলাল ও ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোপি মারমার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেয়র রফিকুল আলম সমর্থিত গ্রুপের ১৫ নেতাকর্মী ও এমপি গ্রুপের ৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবী করেছে উভয় গ্রুপ।
আহতরা হচ্ছে, মেয়র সমর্থিত গ্রুপের নয়ন শীল, রুবেল,ইব্রাহীম,উলাঅং মারমা,সোহেল,ক্যউজাই,হৃদয়,দেলোয়ার,নুর আলম,বাবু,খাইরুল,রণি, অন্যদিকে এমপি সমর্থিত গ্রুপের আহতরা হচ্ছে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রুথাই চৌধুরীসহ ৪জন।
সোমবার রাতে খাগড়াছড়িতে বেলাল হোসেন নামক এক শ্রমিকলীগ নেতার উপর সন্ত্রাসী হমলার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় মেয়র রফিকুল আলম সমর্থিকরাও পাল্টা একটি মিছিল নিয়ে সড়ক ও জনপদ অফিসের সামনে আসলে এমপি সমর্থিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের উপর বিনা উস্কানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বাঁধে বলে অভিযোগ করেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার।
এ সময় দিদারুল আলম বলেন, এমপি সমর্থিত গ্রুপের ক্যাডার বাহিনী অস্ত্রে সু-সজ্জিত হয়ে বিনা উস্কানীতে পরিকল্পিত এ হামলা চালায়। এ সময় নিজেদের রক্ষার্থে আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হেলাল ও গোপি মারমা প্রশাসনের উপস্থিতিতে ৫ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে বলে তিনি জানান। এক পর্যায়ে দিদারুল আলম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেন।
মেয়র রফিকুল আলম বলেন, হরিনাথপাড়াসহ শালবনে ৭টি বাড়ী ভাংচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে এমপি কুজেন্দ্র গ্রুপের ক্যাডাররা হামলা চালালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের শাস্তি করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা মংসেইপ্রু চৌধুরী অপু এ হামলা দায় অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিকলীগ নেতা বেলাল হোসেন এর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে মেয়র সমর্থিতরা বিনা উস্কানীতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণের অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হেলাল বলেন, আমাদের কারো কাছে কোন অস্ত্র ছিলনা। গুলি বর্ষণের ঘটনাটি সত্য নয় বলে তিনি দাবী করেন।
ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলাকালে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্ত্বর থেকে শুরু করে কোর্ট বিল্ডিং এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। সংঘর্ষ চলাকালে ব্যাপক সংখ্যাক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও পুলিশের বিরুদ্ধে নীরব ভুমিকা পালনের অভিযোগ উঠে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার (পুলিশ পরিদর্শক) ওসি তদন্ত মোহাম্মদ শাহানুর আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তিনি এমপি সমর্থিত গ্রুপের ২ নেতার প্রকাশ্যে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনার কথা পুলিশ জানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুটেছে এবং ভিডিত্ত ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যে প্রতিবেদন দিল মেডিকেল বোর্ড

ষ্টাফ রিপোর্টার :: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রতিবেদন ...