আরেক প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবী: অনিয়মের অভিযোগ

প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবী: অনিয়মের অভিযোগ খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: জাজিরায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জাজিরা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করবেন তদন্ত কমিটি। নিজেকে নির্দোষ ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবী করেন অভিযুক্ত শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১১ সালের ৬ আগস্ট থেকে রোকেয়া আকতার প্রধান শিক্ষক হিসেব উপজেলার ৪৬ নং রায়ের কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের নিয়ম শৃঙ্খলা, পাঠদানের পদ্ধতি পরিবর্তনসহ সহকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এসএমসি কমিটির সাথে খারপ আচরণ করে আসছে।

বিদ্যালয়ের তহবিল ও সরকারী ফান্ড স্লিপের টাকা বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে এ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাথে অকারনে ঝগড়া-বিবাদ ও পুলিশ দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

রোকেয়া আকতার প্রধান শিক্ষকতদন্তকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক রোকেয়া আকতারের অপসারনের দাবীতে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক বিগত ৭ বছরে কোন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেয়নি। কাব ড্রেস দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছে। সনদপত্র ও প্রবেশপত্র দেয়ার কথা বলে ২শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। প্রধান শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে গাইড বইর সহায়তায় পাঠদান করেন। কারনে অকারনে বেত ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বরত সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন খারাপ হতে যাচ্ছে। এ শিক্ষকের অপসারণ না হলে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী শূণ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি রিক্সা ও ভ্যান চালকদের সাথে ভাড়ার টাকা নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া করেন।

তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আ. আজিজ শিকদার, শাহ জালাল, মো. দেলোয়ার শিকদার, মো. বজলুর রশিদ শিকদার, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. বাচ্চু মিয়া, মো. আমির হোসেন মল্লিক, এস এম সাত্তার, প্রধান শিক্ষক রোকেয়া আকতার, সহকারী শিক্ষক রানু আক্তার, হাওয়া খাতুন, আলোছায়া, লাবনী আক্তার লুনা প্রমূখ।

উপস্থিত স্থানীয়রা জানায়, এ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের জন্য অভিশাপ। উনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করে। স্থানীয় মুরব্বিদের সাথেও অকারনে মিথ্যাচার ও পুলিশী হয়রানী করে আসছে। এ প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে স্থানীয় মুরব্বিদের স্বাক্ষরিত অভিযোগ জেলা শিক্ষা অফিসে দেই। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তদন্ত হচ্ছে। আমরা এ শিক্ষকের অপসারন চাই।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রোকেয়া আকতার বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত না।
তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুকন্ঠ ভক্ত বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক রোকেয়া আকতারের বিষয়টি তদন্ত করছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে প্রেরণ করবো।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা ১৮ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার :: আগামী মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ...