আমু-তোফায়েল লাইম লাইটে

ঢাকা : অভিমানে দুরে সরে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ডলির দুই সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ সরকারের শেষ সময়ে দলের ক্রান্তি লগ্নে সভানেত্রীর পাশে মমতার হাত নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদেরকে অতিসম্প্রতি বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রতিটি কর্মসূচিতে আমু ও তোফায়লকে এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সংসদ ও রাজপথে এই দুই নেতা এখন আগের মতোই সোচ্চার, দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও দারুন ভাবে উজ্জীবিত।পুরানো সহ কর্মীরাও তাদের সক্রিয় হওয়াতে স্বাগত জানিয়েছেন।জানা গেছে, দলের সভানেত্রী আমু-তোফায়লকে গুরুত্ব দেয়ায় দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চলা ফিরে এসেছে।তারা এখন দারুণ খুশি। আমু- তোফায়েলের বাসায় সাধারণ নেতা-কর্মীদের ভিড়ও বেড়েছে।
সূত্র বলেছে, গেল সম্মেলনের পর থেকে এ দু’নেতা দলের প্রেসিডিয়াম থেকে ছিটকে পড়েন অথচ গত তিন দশক দরে এ দু’নেতা দলের জন্য অপরিহার্য ছিলেন। সংস্কারের অভিযোগ থাকায় ওয়ান ইলেভেনের সময় আমু, তোফায়েল, সুরঞ্জিত, প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ নেতার পর শেখ হাসিনা বিরক্ত হন। কারামুক্ত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ২০০৮ এ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে উল্লেখিত নেতারা মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভূক্ত হতে ব্যথ হন এমনকি পরবর্তীতে দলের জাতীয় সম্মেলনে প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকেও ছিটকে পড়েন। তাদেরকে উপদেষ্টা ম-লির সদস্য করা হয়। শুরু থেকেই নিজেকে উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য হিসাবে তোফায়েল আহমেদ পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান এমনকি কয়েক মাস আগে তোফায়েলকে মন্ত্রীসভায় যোগ দেয়ার আহ্ববান জানালেও যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান, যদিও সুরঞ্জিত রেলমন্ত্রী হিসাবে যোগ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে দুর্নীতির কারণে মন্ত্রণালয় হারিয়ে দফতর বিহীন মন্ত্রী হিসাবে এখনও বহাল আছেন। মন্ত্রীসভা ও দলের প্রেসিডিয়াম থেকে আমু, তোফায়েল সহ সিনিয়র নেতাদের বাদ পড়ার ঘটনা আওয়ামী লীগের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আমু-তোফায়েল সহ সিনিয়র এসব নেতাদের সাইজ করতে শেখ হাসিনা অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নেতাদের ধরে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাই দিয়েছেন, যা ছিল এসব সিনিয়র নেতাদের জন্য খুবই অপমানজনক। মানসম্মান জলানজলি দিয়ে এসব নেতারা দলের প্রতি ছিলেন একন্তাই অনুগত। দল শেখ হাসিনার নেতৃতে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসলে এসব নেতারা একেবারেই সাইড লাইনে বসা ছিলেন। বলা যায়, এ নেতারা একরকম বেকার ছিলেন। সরকার ও দলের বিশেষ-বিশেষ দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া এসব নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন, দলের ধানমন্ডী ও গুলিস্থান কার্যালয়ে তেমন দেখা যায়নি। জানা গেছে, অপেক্ষাকৃত জুনিয়র যে সব নেতারা মন্ত্রী, এমপি, দলের কেন্দ্রীয় নেতা হয়েছেন তারাও এত দিন শেখ হাসিনার ভয়ে আমু-তোফায়েলদের খোঁজ-খবর নেয় নি কিন্তু অতিসম্প্রতি তারাও এখন আমু- তোফায়েলদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সময়ের পরীক্ষায় আমু তোফায়েল দারুণ ভাবে উত্তীর্ন। তারাও নিজেদের মেধা, শ্রম দলের জন্য নিরলস ভাবে উজাড় করে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমু- তোফায়েলের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে নিজ-নিজ সমর্থক নেতা-কর্মীরাও দারুণ উল্লসিত।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...