আমরা ক্রমশ সেবাদাসে পরিণত হচ্ছি…

টিকফা চুক্তি দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ হয় হচ্ছে, দিব-দিচ্ছি করতে করতে ক’দিন আগে সম্পাদিত হলো। এই চুক্তিটা আসলে কিসের চুক্তি তা অধিকাংশ মানুষ-ই জানে না। দেশের ষোল কোটি মানুষের অধিকাংশই খোঁজ নেয় নি কি চুক্তি করলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই সরকার। কারণ, সরকার এমন পরিস্থিতিতে তাদেরকে ফেলেছে যে, জীবন আর যার যার সংসার-সন্তান নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতেই অবস্থা শেষ। সেখানে নতুন করে অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময়-ই তারা পায় না। সোজা কথায় বলতে গেলে বলা যায়, নিজের চরকায় তেল দিতে দিতেই তাদের রাত হয়ে যায়, দেশের চরকায় কখন তেল দেয়ার কথা ভাববেন, দেয়া তো অনেক দূরের কথা। কেবল মাত্র আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সাথে তাদের সমর্থিত জনপ্রতিনিধি-মন্ত্রী-আমলা-সরকারী চাকুরীজীবি-সাংবাদিক আর কিছু দালাল ব্যবসায়ী ব্যাতিত প্রতিটা মানুষকে করে দেয়া হয়েছে জাবর কাটা গরু। যারা সারাদিন নিজের মত করে কষ্টসাধ্যের মধ্য দিয়ে কিছু ঘাস যোগার করে এবং এরপর জাবর কাটতে থাকে জাবর কাটতে থাকে। যখন সেই ঘাস শেষ হয়, তখন আবার তার কষ্টের পালা শুরু হয়। যে কারনে সরকার টিকফা চুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের সম্পদের ৫০ ভাগ বিদেশী- বেনিয়াদের হাতে তুলে দিলেও কেউ কোন প্রাতিবাদ তো দূরের কথা ‘রা’ শব্দটিও করেনি।

অবশ্য স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা আমেরিকা, ভারত, চীন-জাপানসহ অন্য অনেক দেশকেই দিতে দেখেছি। নিজেদেও ড়্গমতা ধরে রাখার জন্য হাসিনা বুবু যেমন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন; একইভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন খালেদা ভাবিও। এখানে অবশ্য একটা বলে রাখি- আপনারা ‘চাঁদ মামা’র এজমালি কাহিনী তো জানেন-ই; কিন্তু খালেদা ভাবি আর হাসিনা বুবু’র এজমালি হওয়ার কাহিনীটা কি জানেন? ইা জানলে অপেড়্গায় থাকুন শেষে এসে সেই কাহিনী দিয়ে শেষ করবো। তো যে কথা বলছিলাম, ড়্গমতায় আসার এবং থাকার জন্য নিবেদিত হাসিনা বুবু এবং খালেদা ভাবির প্রাণনত্মকর চেষ্টার কারনে দেশের মানুষ শুধু লাশ-সহিংসতা আর হামলা-মামলা ব্যাতিত কিছু না পেলেও বাইরের দাদা রাষ্ট্র ভারত পেয়েছে সুন্দরবনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পেয়েছে ট্রানজিট সুবিধা অথচ আমাদের দেশ-বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে শত শতবার চেয়েও পায়নি তিসত্মা চুক্তি, পায়নি নিজেদের জন্য কোন সুবিধা। বরং ভারতকে কোন কিছু চাওয়ার আগেই দিয়ে দিয়েছেন দু’জন-ই। একজন অবশ্য এখন জামায়াত-শিবিরের দোসর সেজে ভারতের বিরম্নদ্ধে প্রায় প্রতিদিন-ই নাক সিটকান। কিন্তু বাসত্মবতা হলো এই যে, জাতি তাকেও ড়্গমা করবে না। কেননা, নিরবে নির্ভতে তার দল, তার সরকার পদ্মাকে মেরেছে এই ভারতের সাথে চুক্তি করেই। পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়ানো প্রভু দেশ আমেরিকার জন্য নিবেদিত ছিলেন দু’জন-ই। যে কোন প্রয়োজনে প্রথমেই তারা ছুটে যান সেখানে। দিয়ে আসেন নতুন নতুন চুক্তিতে স্বাড়্গরের ওয়াদা। যে কারনে নিজেদের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে গেছে দাদা আর প্রভুদের কাছে। এখন দাদা আর প্রভুরা মিলে ড়্গমতায় আসার এবং থাকার পক্ষের মানুষদের ঠিকাদারী নিয়েছেন। সেই ঠিকাদারীর সূত্র ধরে রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দাদারা-প্রভুরা। তারা সেখানেই থেমে থাকেন নি, এগিয়ে এসেছেণ বহুদূর। এতদূর এসেছেন যে, জাতি জানতে পেরেছে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হবে বাংলাদেশে। পাশাপাশি সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো না কি রীতিমতো উদ্বিগ্নও। তাই অস্থিতিশীল এই রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ প্রভুর ভূমিকা পালন করতে তৈরি হচ্ছে বরাবরের মত।

আমার জানা যদি ভুল না হয়ে থাকে খন্দকার মোসত্মাক যখন নিজেকে ক্ষমতায় আনে, তখন এই বিশ্বাস ঘাতককেও সহায়তা করেছিলো ভারত-আমেরিকা-জাতিসংঘ। সেই কথা আজ বেমালুম ভুলে ক্ষশতার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন বুবু। কিন্তু তিনি একারের জন্যও ভাবছেন না, ক্ষমতা তার আর যার-ই হোক দেশ সবার। দেশের মানুষ, দেশের সম্পদ দেখে রাখার দায়িত্ব তার। কেননা, তিনি জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা। দেখে রাখার দায়িত্ব খালেদা ভাবিরও, কেননা, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। তারা ক্ষমতায় থাকুন আর না-ই বা থাকুন, জনগন তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিবেদন করবে বুবু-ভাবির জন্য। কিন্তু তারা সে কথা ভাবছেন না। ভাবছেন নিজেদের ড়্গমতার কথা, ভাবছেন নিজেদের পরিবারের ক্ষমতার কথা। এই সুযোগে দেশকে সেই তলাবিহীন ঝুড়ির শেষ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে প্রভু আর দাদারা। এই সুযোগে তারা বলছে, দেশে সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য সকল দলকে নির্বাচনে আসতে হবে।

সহিংস সংঘাতে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংলাপ-সমঝোতার মধ্য দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা না থাকায় শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পার্তে এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, ঢাকায় কূটনৈতিক মহল এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলাপ-আলোচনা অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধানত্ম গ্রহণের আগে তারা দেশের প্রধান দুই জোটের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সব দলের অংশগ্রহণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা যায় কিনা, তার শেষ চেষ্টা করবেন। আর তা না হলে বিকল্প পথে যে তাদের যেতে হবে, তাও সাফ জানিয়ে দিয়ে যাবেন। তিনি এর আগেও সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের কথা ঢাকায় এসে জনে জনে বলে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে সরকারি দলকে এ সম্পর্কে তিনি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের সামপ্রতিক চিঠিতেও সাফ জানানো হয়েছে, ছাড় দিয়ে সব পক্ষকে নিয়ে নির্বাচন না করলে সেই নির্বাচন জাতিসংঘসহ কেউই মেনে নেবে না। একই সঙ্গে ভিন্ন পথে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য সচরাচর যা হয়, তা-ই হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতিতে কোনো দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে এবং অভ্যন্তরীণভাবে তা মীমাংসার সুযোগ না থাকলে সেখানে জাতিসংঘ সরাসরি বা অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে থাকে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত শতাধিক দেশ জাতিসংঘের কাছে নির্বাচনের বিষয়টি তদারকির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা অনেক বেশি হবে। আর ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের একটি শাখা রয়েছে [Electrol Assistance Group (EAD) বা নির্বাচনী সহায়তা বা সহযোগিতা গ্রুপ; এখন এই গ্রম্নপের সহায়তায় আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই ইঙ্গ-মাকিন শক্তির প্রভাব বাংলাদেশের সাথে সাথে পুরো এশিয়া মহাদেশে স্থান করে নেবে। বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য কখনোই এই প্রভুরা ছিলো না। তারা স্বাধীনতার সময়-ও তাদের স্বার্থ নিয়ে ভেবেছে, এখনো ভাবছে। অতএব, বাংলাদেশের কথা ভেবে হলেও ববু-ভাবিকে অনুরোধ জানাবো বাংলাদেশকে বাঁচান-বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচান। ড়্গমতা আপনাদের-ই। এই ড়্গমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করবেন না, দয়া করম্নন…

পরিশেষে স্বাধীন বাংলাদেশে সবার জন্য ভাবি-বুবু কিভাবে এজমালি হলো, সেই কাহিনীটা বলছি- বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির জনক। এই জনক কন্যা তাহলে আমাদের কি হবে? প্রশ্ন করেছিলাম আমার প্রিয় শ্রমিক নেতা জেড এম কারুল আনামের কাছে, তিনি একটা হাসি দিয়ে বলেছিলেন, যেহেতু তাঁর বাবা আমাদের জাতির বাবা; সেহেতু তিনি বুবু হবেন…

আর বুবুর কাহিনীটা হলো- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনোই জনগনের কাছ থেকে দূরে রাখেন নি। সেই সময় কেউ কেউ স্যার বললেও অধিকাংশ মানুষ-ই বলেছেন ভাই। আর এই ভাইর বউ তাহলে আমাদের কি হবে জানতে চাইলে আরেক শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছিলেন, ভাবি। সেই থেকে আমি মনে করি শেখ হাসিনা আমাদের এজমালি বুবু আর খালেদা জিয়া এজমালি ভাবি। তো এই ভাবি আর বুবু বাংলাদেশকে কখনোই এজমালি বাংলাদেশের বাইরে অন্য কিছু ভাবেন নি। যে কারনে নিজের মত করে ড়্গমতা আঁকড়ে রাখার ব্যার্থ চেষ্টাটা দু’জন-ই করেছেন। এবার ব্যাতিক্রম হলে জাতি খুশি হবে-বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন খুশি হবে-বাংলাদেশ খুশি হবে…

মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মনোনয়নপত্র বেচে ১৩ কোটি টাকার বেশি আয় আওয়ামী লীগের

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় ৪ হাজার ৩৬৭টি ...