‘আপনি জানেন না একজন ইউএনওকে স্যার বা ম্যাডাম বলতে হয়’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম

কলিট তালুকদার, পাবনা প্রতিনিধি :: স্যার না বলায় স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীর ওপর চটে গেলেন পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম। এ সময় ইউএনও উত্তেজিত হয়ে এই সংবাদ কর্মীকে বলেন, আপনি কত দিন ধরে সাংবাদিকতা করেন। আপনি জানেন না একজন ইউএনওকে স্যার বা ম্যাডাম বলতে হয়।

বুধবার বিকেলে পেশাগত কাজে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও সময় টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সৈকত আফরোজ আসাদ মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানার জন্যে ফোন করে। মুঠোফোনে আলাপের মাঝে তাকে আপা বলে সম্মোধন করায় সে ক্ষিপ্ত হয়। এ সময় তার সাথে অনেক বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই সংবাদকর্মী সদ্য বিদায়ী পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালোকে আপা বলে সম্মোধন করার বিষয়টি অবহিত করলে ইউএনও ফারজানা খানম বলেন, স্যারের বিষয়টি জানি না। আমাদের চাকুরীতে নিয়ম কানুন আছে অবশ্যই আমাকে স্যার বা ম্যাডাম বলে সম্মোধন করতে হবে। অন্য কারোর সাথে আমাকে বিবেচনা করা যাবে না।

বেড়ায় কর্মরত একাধিক সংবাদ কর্মী জানান, সম্প্রতি ঢাকার জাতীয় দৈনিক বাংলা খবর প্রতিদিনের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানমকে আপা বলায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে আশালীন আচরন করেন।

শুধু তাই নয় তিনি বেড়ায় যোগদানের পর থেকেই শুধূ সংবাদ কর্মী নয় জনসাধারনের সাথে খুবই খারাপ আচরন করেন। উপজেলা একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার এই আচরনে সবাই অতিষ্ঠ হলেও কেউ মুখ খুলতে পারে না বলেও জানান। বেড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিষয়টি নিয়ে চরম কানাঘুষা হলেও তিনি এমন আচরন করে আসছেন।

এ বিষয়ে পাবনা টেলিভিশন ও অনলাইন সাংবাদিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও এটিএন নিউজ’র পাবনা প্রতিনিধি রিজভী জয় বলেন, একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিকট থেকে এ ধরনের কামনা করতে পারেন না। কেননা আমরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী শেষ করেই এই পেশায় কর্মরত আছি। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে আমরা আবশ্যই কাজ করি না। সেখানে তাকে স্যার বা ম্যাডাম বলার প্রশ্নই ওঠে না।

এ বিষয়ে পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা বলেন, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজন পেশাদার সাংবাদিকের সাথে যে আচরনটি করেছেন, তা মোটেও উচিত হয়নি। এতেই প্রমানিত হয় যে, তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ এ ধরনের পজিশনে নেই। তিনি এ পজিশনে থাকায় তার মধ্যে অহম বোধ কাজ করে বলেই এমন আচরন করেছেন। অবশ্যই তার ওই সাংবাদিকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত বলেও জানান এই সাংবাদিক নেতা।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরোপ্রধান উৎপল মির্জা বলেন, আমলাদের মধ্যে এই ধরনের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব দূর হওয়া প্রয়োজন। কেননা আমলারা জনগনের বা রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী মাত্র। তারা কখনোই এই ধরনের প্রত্যাশা করতে পারে না। সর্বপরি সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না। তাদের মধ্যে এ ধরনের আচরনের কারনে সাধারন লোকজন তাদের নিকট থেকে প্রত্যাশিত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কমলনগরে ভাঙা সাঁকো যেন মৃত্যু ফাঁদ ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষের পারাপার

ভাঙা সাঁকো যেন মৃত্যু ফাঁদ

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর কালকিনি ইউনিয়নের ...