আন্দোলন আন্দোলন খেলার এপিঠ-ওপিঠ

রবীন্দ্র নাথ পাল :

আবার আন্দোলনে নামার হুমকী দিচ্ছে ২০দলীয় জোট। এর আগেও মাহে রমজানের পর আন্দোলনে নামার হুমকী দিয়ে ২০দলীয় জোট বাস্তবে মাঠেই নামতে পারেনি বিরোধী জোট।

কেন হুমকী দিয়েও বিরোধী জোট আন্দোলনের মাঠ গরম করতে পারছে না, সেটা জোটের অনৈক্যের ফসল, নাকি নিজেদের মধ্যে আস্তা হীনতা সেটা অনুমান করা কঠিন হলেও আন্দোলন মাঠ যে গরম হচ্ছে না সেটাই বাস্তব চিত্র। বর্তমানে জোট থেকে অনেক দল বেড়িয়ে যাচ্ছে,সেটা নাকি সরকারের সাথে আঁতাতের কারনে।

বিগত ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করে নির্বিচারে সাধারন মানুষ হত্যা করে দেশ-বিদেশে যথেষ্ট দুর্নাম কুঁড়িয়েছে। গাড়ীতে আগুন, মসজিদে হামলা করে কোরআন শরীফ পুঁড়িয়ে, সাধারন মানুষকে চরম আতংকের মধ্যে ফেলে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে গিয়ে বিরোধীজোট অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

যার ফলে রাজনীতিতে এখন উত্তাপ ছড়াতে পারছে না বিরোধী জোট। গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর রাজনীতিতে বিরোধীজোট একত্রে কোন আন্দোলন গড়তে পারেনি।

রমজানের পর হাঁকডাক দিয়ে বিরোধীজোট আন্দোলনে নামতে চাইলেও কেন আন্দোলন জোরদার করতে পারছে না, বা নেপথ্যে কি আছে তা এখন তাদের ভেবে দেখার মোক্ষম সময় এসেছে। রাজনীতিতে যেমন শেষ কথা বলে কিছু নেই, তেমনি অন্দর মহলের রাজনীতির সাথে বাহ্যিক রাজনীতির মিল নেই। আজ যে শত্রু, কাল সে মিত্র এটাই হলো আমাদের গনতান্ত্রিক রাজনীতির চরিত্র।

সাম্প্রতিক কালে এ কে খন্দকারের লেখা বই, মওদুদের লেখা বই ও সর্বশেষ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী’র রায় একটির সাথে আরেকটি’র মিল নেই। পরস্পর বিরোধী এসব ঘটনা যে, মূল ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আলোচনার বিশাল খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

কেন এই সময়ে খন্দকার সাহেব বিতর্কিত বই লিখে প্রকাশ করলেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ-ই বা কেন ওয়ন ইলিভেনের সময়কার তথ্য দিয়ে রাজনীতির উত্তাল সময়ে বেগম জিয়াকে টার্গেট করে বইটি প্রকাশ করলেন, সেটা ইতিহাস একদিন বিচার করবে।

যেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নিয়ে এত হৈচৈ, সেই সাঈদীকে বিজ্ঞ আপিল আদালত থেকে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশের পর অনেকেই

বলাবলি করছেন আঁতাতের রাজনীতি ফসল এটি। হয়তো সেজন্য জামায়াতের ঢাকা হরতালে সায় নেই শরীক বিএনপি জোটের। আঁতাত আলোচনায় জামায়াত-বিএনপি’র সর্ম্পক অনেকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জামায়াত দুদিন হরতাল ডাকলেও মাঠে নেই বললেই চলে। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো একটি পরিচ্ছন্ন এবং সবদলের অংশগ্রহনমুলক নির্বাচনের দাবী বারবার জানালেও মহাজোট সরকার এ দাবীকে মোটেই পাত্তা দিচ্ছে না। বরং সংবিধানে বিভিন্ন সংশোধনী এনে শক্তহাতে দেশ শাসন করে যাচ্ছে। ২০দলীয় জোটের এ মুহুর্তে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে পারবে বলে সাধারন মানুষ মনে করে না।

সাধারন বিএনপি কর্মীরা মনে করে তারেক জিয়া বিদেশে না বসে দেশে এসে মহাজোট সরকারকে চ্যালেঞ্জ করলে রাজনীতিতে জোটের কিছুটা সুবিধা হতো। সুদুর লন্ডনে বসে বিবৃতি দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো কখোনো সম্ভব হবে না। তার চেয়ে দেশে এসে মামলাগুলোর মুখোমুখি হলে তার ও দলের গ্রহন যোগ্যতা বাড়বে বৈ কমবে না।

আন্দোলনের নামে সাধারন নেতা কর্মীরা মামলার পর মামলা খেয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে, আর তারেক জিয়া মামলা থেকে বাচঁতে দুরে থেকে বক্তব্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে দিবে এটা এ চিন্তা বোকার স্বর্গে বসবাসের মত হবে। জামায়াতের হরতালে বিএনপি বাহ্যিক সায় না দিলেও তাদের হরতালের পর বিএনপি হরতাল ডেকেছে

ঠুনকো অজুহাতে। আদতে যেদিন ১৬তম সংশোধনী পাশ হলো সেদিন কেন বিএনপি হরতাল ডাকলো না সেটাই প্রশ্ন। আসলে এ হরতাল দিয়ে বিএনপি শুধুমাত্র ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের চাঁঙ্গা করতে চায়।

বঙ্গবন্ধু একদিনে বঙ্গবন্ধু হননি। দীর্ঘ রাজনীতির জীবনে বহুবারজেল খেটে জনতার কাতারে থেকেই বঙ্গবন্ধু হয়েছেন, একটি স্বাধীন দেশ জাতিকে উপহার দিয়েছেন। আর তারেক জিয়া লন্ডনে এসি রুমে স্বপরিবারে বসবাস করে মহাজোট সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসবেন- এ অলীক এস্বপ্ন বাস্তবায়নের চিন্তা বাতুলতা মাত্র।

তারিখ: ২১/৯/১৪

লেখক: রবীন্দ্র নাথ পাল, বার্তা সম্পাদক,  দৈনিক আজকের বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ, মোবাইল- ০১৭১৩-৮১৯২৯৪

 

 

   

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দলকানা_মনোভাব_এবং_ছাত্রসমাজ।

দলকানা মনোভাব এবং ছাত্রসমাজ

মুহাম্মদ তুহিন ফারাবী :: পুর্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ...