অশ্বস্তির গরমে প্রশান্তি তরমুজের বাম্পার ফলন

অশ্বস্তির গরমে প্রশান্তি তরমুজের বাম্পার ফলনমহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: এই অশ্বস্তি গরমে মুহুর্তেই প্রশান্তি আনে মৌসুমী ফল তরমুজ। শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪০ মেট্রিকটন। বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে তরমুজের আবাদ।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভবান হচ্ছেন তরমুজ চাষীরা। আবাদ এলাকা পরিদর্শন করে চলতি মৌসুমের তরমুজের উৎপাদনকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছের সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

সূত্রমতে, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় লবণ পানির চিংড়ী চাষ হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষি জমি লবণাক্ত। ফলে মাত্রারিক্ত লবণাক্ততার কারণে ব্যহত হয় কৃষি ফসল উৎপাদন। লবণাক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন, এলাকায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২শ হেক্টর জমিতে উন্নত ড্রাগণ ও পাকিজা জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটি ১৭৫ এবং গড়ইখালী ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

সৈয়দখালী এলাকার কৃষক শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। উৎপাদিত তরমুজ তিনি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকিতে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিঘা প্রতি আয় করছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে তিনি মনে করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল, বীজ রোপন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। এ জন্য অন্যান্য ফসলের তুললনায় তরমুজের উৎপাদন খরচ অনেক কম।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহাজোট থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি

স্টাফ রিপোর্টার :: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে জোট করেই নির্বাচনে অংশ ...