অশিক্ষিত সাংবাদিক নির্মূলে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যায় না মাননীয় সেতুমন্ত্রী

অশিক্ষিত সাংবাদিকরফিকুল আনোয়ার :: এ সময় বললে ভুল হবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানাবিদ মুখরোচক ও অপ্রিয় সত্য কথা বলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছেন বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রীদের লেখাপড়া কম, আওয়ামীলীগে কাউয়া ও হাইর্বিড তত্ত্ব আবিষ্কার করে সারাদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বরাবরই তিনি সোজাসাপটা কথা বলে থাকেন। এজন্য অনেক সিনিয়র মন্ত্রীও তাকে সমীহ করে চলেন।

ব্যাক্তিগত জীবনে নির্লোভ ও দুর্নীতির উর্দ্ধে যেসব মন্ত্রী রাজনীতিবিদদের ভাবা হয় তাদের মধ্যে ওবাদুল কাদের একজন। তার সততা দূরদর্শিতার কারনে ঘরে বাহিরে প্রচন্ড বিরোধিতা মোকাবেলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে তাকে আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক বানিয়েছে।

দলীয় সম্পাদক পদ লাভের পর সারাদেশে দল গোছাতে গিয়ে কাউয়া ও হাইর্বিড তত্ত্ব আবিষ্কার করলেও এখন পর্যন্ত দেশের কোনো অঞ্চলের কোন কাউয়া বা হাইর্বিডকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে কিংবা কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে এমন সংবাদ আজ অবধি পাওয়া যায় নি। এসব কি বলার জন্য বলে থাকেন, না কি কাউয়া ও হাইর্বিডরা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক থেকে অধিক শক্তিশালী তাই ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

গত সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের আনন্দ সম্মিলনীতে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্লিজ খোজখবর নিন মফস্বল সাংবাদিকদের, ওখানে কোনো সাংবাদিকতা নেই। এক লাইন শুদ্ধ লিখতে পারে কিনা তাও সন্দেহ আছে। সেও নাকি সাংবাদিক।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার এলাকার আশে পাশের এলাকার এক সাংবাদিক আছে যে এক লাইন শুদ্ধ বাংলা লিখতে পারে কিনা তাও সন্দেহ। তবুও সে একটি কাগজের সাংবাদিক।

সাধুবাদ মাননীয় মন্ত্রীকে অনেক পরে হলেও বিষয়টি উপলদ্ধি করতে পারছেন যে সাংবাদিকতার নামে দেশে এসব কি হচ্ছে। আপনি সরকারের নীতি নির্ধারকদের একজন। তাহলে আপনার বক্তব্য এমন হওয়া উচিৎ ছিল, যাদের শিক্ষাগতা যোগ্যতা নাই কিংবা শিক্ষাগতা যোগ্যতা কম তারা সাংবাদিক হতে পারবে না।

আপনি এ অনুষ্ঠানে আরও বলেছেন, ব্যাঙের ছাতার মতো মিডিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং আপনিও সাংবাদিক ছিলেন। যারা ভাল সাংবাদিক তারা প্রফেশনাল। পড়াশুনা করে তারা সাংবাদিকতা করে। তাদের সাংবাদিকতা নিয়ে আসুন।

মাননীয় মন্ত্রী আপনার বক্তব্য শুনতে ভাল লাগল, কিন্তু এর প্রতিকার কি? আপনার এলাকার আশেপাশের এলাকার একজন সাংবাদিকের কথা বললে ও এ রকম অসংখ্য আছে আপনার এলাকাসহ সারাদেশে। এরা জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা একেক সময়ে একেক দলের আর্শীবাদে থেকে সাংবাদিকতার নামে এমন কোন অপকর্ম নেই যা চালাচ্ছে না।

আমি সারা দেশের কথা পরে বলি, আপনার উপজেলা এবং জেলার প্রকৃত সাংবাদিক কতজন? মাদক বিক্রেতা, জমির দালাল,থানার দালাল এমনকি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সহোযোগিদের সহোযোগিরাও সাংবাদিকতার নামে লুঠপাঠ ও দখল বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। আপনি সরকার পরিচালকদের গুরুত্বপূর্ন একজন।

অনুরোধ না করে দেশ ও জাতির স্বার্থে সাংবাদিকতা নীতিমালা তৈরি করে জাতিকে রক্ষা করুন। সোজা আইন করে দিন সর্বনিন্ম বিএ পাশের নিচে কোন পর্যায়ের সাংবাদিকতা নয়। আর জাতীয় ভাবে আইন করে দিন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের যে সব পত্রিকা সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ দিবে তাদের অবশ্যই বেতন/ভাতা প্রদান করতে হবে।

দেখা যায় যে, জাতীয় পর্যায়ে অনেক পত্রিকা আছে ৫০০০ টাকার বিনিময়ে ৫ম/৬ষ্ঠ শ্রেনী পাশ লোকদের উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক নিয়োগ দেয়। এসব সাংবাদিকরা নিয়োগ প্রাপ্তির পর যা করার তাই করে।

মাননীয় মন্ত্রী, আপনি যখন সাংবাদিক ছিলেন তখনকার সাংবাদিকদের মর্যাদা আর এখনকার সংবাদকদের মর্যাদা এক মূল্যায়ন করে দেখুন। যে পেশায় আপনি ছিলেন সে পেশার মর্যাদা বৃদ্ধিতে আপনার সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিবে এই প্রত্যাশা সাংবাদিকরা করে। সাংবাদিকরা আপনার কাছে জানতে চায় অশিক্ষিত সাংবাদিক নির্মূলে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যায় না মাননীয় সেতুমন্ত্রী?

 

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিন ও আহ্বায়ক নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমন্বয় কমিটি, noakhalipratidin@gmail.com

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

‘শিক্ষা আমার স্বাধীনতার অধিকার, আমৃত্যু লড়ে যাবো অধিকার আদায়ে’

আরিফ চৌধুরী শুভ :: বাংলাদেশে শিক্ষার অধিকার মানুষের সংবিধান স্বীকৃত জন্মগত অন্যতম একটি মৌলিক ...