অর্থমন্ত্রীর বোকামি স্বীকার: জলবায়ু তহবিল পায়নি বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রীর বোকামি স্বীকার, জলবায়ু তহবিল পায়নি বাংলাদেশসোহানুর রহমান:: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তহবিলের খুব ছোট অংশ পাওয়ার কারণ হিসেবে নিজের বোকামোর কথা স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সস্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট নিহাদ কবির, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর পরিচালক সালিমুল হক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের ফেলো গোলাম রব্বানি, ইউনির্ভাসিটি অব টরন্টোর প্রফেসর মনিরুল কিউ মির্জা প্রমুখ।

তাদের বক্তব্যে সরকারের পাশাপাশি বিশ্বে জলবায়ু তহবিল গঠনের বিষয়টি উঠে আসে।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজ, সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ, ব্রাক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু তহবিলের খুব কম অংশই পায়। আর এর পেছনে আমার বোকামোও আছে।’

অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। কিন্তু মুহিত বলতেই থাকেন।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি এটা বলছি। ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে যখন সারা বিশ্বের নেতারা যুক্তরাজ্যে এক হলেন, তখন বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল করার কথা বলেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম, ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল হলেও বাংলাদেশ এটা থেকে হয়ত বেশি টাকা পাবে না। তাই আমি আমার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আমাদের কারও কাছ থেকে টাকার জন্য অপেক্ষা করা উচিত না। তার চেয়ে আমরাই আমাদের ট্রাস্ট গঠন করি।’

‘২০০৯ সালে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে ৭০০ কোটি টাকার একটা প্রতিশ্রুতি দেন। তখন আমি ভাবিনি এটা প্রতি বছর নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। এরপর থেকে প্রতি বছর এই পরিমাণ টাকা দিতে হচ্ছে। আমি যখন এটা কমাতে চাই, আমার নিজের মন্ত্রণালয় বাঁধা দেয়। বলে, না এটা করা যাবে না, এটা সারা বিশ্বে আমাদের প্রসংশিত একটি প্রকল্প।’

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে প্রত্যাশা মত অনুসারে সফলতা আসছে না বলেও স্বীকার করেন মুহিত। এ কারণে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট তহবিল না থাকাকে দায়ী করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণে বেশি জোড় দেয়া উচিত। …উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।’

জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই সম্পদের অসম বণ্টনকে সমস্যা মনে করেন মুহিত। বলেন, ‘বিশ্বের ৬ ভাগ মানুষ ৬০ ভাগ সম্পদ দখল করে আছে। সেটা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার মতোই একটি সমস্যা। সেই সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।’

জলবায়ু পবিরর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা ছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব দিতে চান মুহিত। বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলা ও দেশের উন্নয়নমূলক কাজও করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা তিন ৩ কোটি। এটাকে কমিয়ে ১০ এক কোটিতে আনতে পারলে মনে করব সরকার সফল।’

‘এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’-জানয়ে মুহিত বলেন, ‘আমি মনে করি কোনো সরকারই এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যাবে না। বরং যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারাই দেশের দারিদ্র্য কমাতে কাজ করবে।’

সম্মেলনে পাঁচ মহাদেশের ১৩ দেশের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা ১৭টি প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ব জলবায়ু ও জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন ইউএস বাংলার যাত্রীরা

ষ্টাফ রিপোর্টার :: এবার অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রামগামী ...