অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার

bandarban নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্এসএম মুকুল ::

সৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ ও বিশ্বকে জানার জন্য দেশ থেকে দেশান্তরে ভ্রমণের পিপাসা মানুষের চিরন্তন শখ। এ শখ বা নেশাকে কেন্দ্র করে দেশে দেশে গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প। দেখা গেছে পৃথিবীর অনেক দেশের অর্থনীতির নাড়ির স্পন্দনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটনকে কেন্দ্র করে। এমন উদাহরণও হাতের কাছেই_ মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, ভারত ও সিঙ্গাপুর। আমাদের দেশেও এ শিল্পের সম্ভাবনা অফুরন্ত।

এ দেশের নদ-নদী, সবুজ-শ্যামল মাঠ, ফসলের খেত, ছায়াঢাকা গ্রাম, শান বাঁধানো পুকুর, গ্রামবাংলার মানুষের সরল জীবন বিশ্বের যে কোনো মানুষের হৃদয় আকৃষ্ট করে। তাই বিজ্ঞ পর্যটকদের অভিমত_ যথাযথ বিকাশের মাধ্যমে শুধু পর্যটন শিল্প থেকেই বছরে হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারে বাংলাদেশ। জীবনানন্দের রূপসী বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে বহু পরিব্রাজক ও ভ্রমণকারী মুগ্ধ হয়েছেন।

বাংলাদেশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি পর্যটনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশকে পরিণত করেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণ কেন্দ্রবিন্দুতে। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের পর্যটন স্পটের মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ, পরিচর্যা আর প্রচারের অভাবে সবকিছুই পর্যটকদের অজানা রয়ে গেছে।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডবিস্নউটিটিসি) ২০১৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে ১২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ১.৮ ভাগ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৭ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সৃষ্টি হয়েছে, যা মোট কর্মসংস্থানের ৩.৭ ভাগ। পর্যটন শিল্পের জিডিপিতে প্রত্যক্ষ অবদানের ভিত্তিতে ১৭৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অবস্থান ১৪২তম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় পর্যটন খাতের বার্ষিক অবদান প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। বিশ্ব পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় মালয়েশিয়া নবম স্থানে। মালয়েশিয়া তাদের সৃষ্ট বিভিন্ন পর্যটন স্পট তৈরি করে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরও তাদের পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়েছে।

নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের একটি প্রধান শিল্প হিসেবে পর্যটন দ্রুত বিকশিত হয়েছে। নেপালের মোট জাতীয় আয়ের ৪০ শতাংশ আসে পর্যটন শিল্প থেকে। নেপালের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হচ্ছে হিমালয়। ভারতে আছে প্রচুর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান।

পর্যটন করপোরেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১ হাজার ৯৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এটা হবে বৈদেশিক আয়ের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ লাখ ৯১ হাজারে উন্নীত হবে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়_ বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের রয়েছে অমিত সম্ভাবনা।

Rangamateপ্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশে পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আবাসন সুবিধা, অবকাঠামো সংস্কার, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে ২০২১ সালে বাংলাদেশের পর্যটন খাত দেশের অন্যতম সমৃদ্ধিশালী শিল্পে পরিণত হবে।

আবার দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের প্রাপ্ত ডাটা থেকে দেখা যায়, ২০১১ সালে পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১.৮ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। আশা করা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে মোট জনসংখ্যার ৪.২ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই শিল্পের মাধ্যমে।

নব্বই দশকের মধ্যবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০১২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে পর্যটন করপোরেশনের প্রমোশন ও বাংলাদেশকে ব্রান্ডিং করার জন্য। বাংলাদেশ ২০১২ সালে শুধু পর্যটন শিল্প দিয়ে ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার রাজস্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও পর্যটন করপোরেশনের অন্য এক তথ্যে জানা গেছে, পর্যটন খাত থেকে ১৯৯৯ সালে ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা আয় আসে।

এর ঠিক ১০ বছরের মাথয় অর্থাৎ ২০০৯ সালে এ খাতের আয় তিন গুণ বেড়ে ৬১২ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এর পরের পাঁচ বছরও একই হারে পর্যটন খাত থেকে আয় বেড়েছে।

পর্যটন শিল্প বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা থকলেও পাশের দেশগুলোর তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি। পাশের অনেক দেশ এ শিল্পের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, সিঙ্গাপুরের জাতীয় আয়ের ৭৫, তাইওয়ানের ৬৫, হংকংয়ের ৫৫, ফিলিপাইনের ৫০ ও থাইল্যান্ডের ৩০ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। মালদ্বীপের অর্থনীতির বেশির ভাগই আসে এ খাত থেকে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। অথচ ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ছিল মাত্র ৩.৯ ভাগ। ২০২০ সাল নাগাদ এর পরিমাণ বেড়ে ৪.১ ভাগ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আরেক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের বার্ষিক আয় প্রায় ৭৬.১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর এই শিল্প খাতে বার্ষিক আয় ভারতে ১০ হাজার ৭২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, মালদ্বীপে ৬০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, শ্রীলংকায় ৩৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, পাকিস্তানে ২৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও নেপালে ১৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আশার কথা হলো, বর্তমানে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল কয়েকটি পর্যটন মার্কেটের একটি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারও পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে এ শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। পর্যটন যে আমাদের অর্থনীতির একটি বিশাল খাত হতে পারে এ ধারণার বিকাশ ঘটে মূলত পঞ্চাশের দশকে। এরপর ১৯৯৯ সালে পর্যটনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটনের অবদান ২.১ শতাংশ; যা দুই বছর আগেও ছিল দেড় শতাংশের মতো। এ খাতে এখন কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ লোকের। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকারেরও আছে নতুন পরিকল্পনা।

সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে ৮ হাজার পর্যটন স্পট নির্ধারণ করেছে। আগামী ১০ বছরে তিন ধাপে স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পার্বত্য জেলাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে এসব পর্যটন স্পটকে আধুনিক ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হবে।

বাংলাদেশের এ পর্যটন কেন্দ্র রাজধানী থেকে অনেক দূরে হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো রেলব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। রেলে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ভালো যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হলে খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে। দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটারের রেললাইন খুলে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার।

পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ালে পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক চেহারা। মিয়ানমার হয়ে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি ও পর্যটননগরী কক্সবাজারকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সঙ্গে আর্ন্তজাতিক পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজার ভ্রমণসুলভ আরামদায়ক ও সহজতর হয়ে উঠবে পর্যটকদের জন্য।

সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা টেকনাফ নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। টেকনাফকে নিয়ে নতুন যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এর নামকরণ করা হয়েছে প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অব কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি বিচ আপ টু টেকনাফ প্রকল্প। যারা কক্সবাজারে বিনিয়োগ করছেন হোটেল-মোটেলসহ নানা প্রতিষ্ঠানে, তারা সরকারের সহযোগিতা পেলে টেকনাফেও গড়ে তুলতে পারেন অত্যাধুনিক মানের হোটেল-মোটেল। পরিকল্পিত উপায়ে সেখানে হোটেল-মোটেল জোন গড়ে তোলা সম্ভব হলে এ খাতে আয়ও বাড়বে। সেই সঙ্গে তারা টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনেও যেতে পারবেন। তখন সেন্ট মার্টিনেও আরো পর্যটক বাড়বে।

আশার কথা, সরকার পর্যটনের কান্ট্রি ব্রান্ডিং অর্থাৎ বিশ্বের পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে উপস্থাপনের জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ২০১২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে পর্যটন করপোরেশনের প্রমোশন ও বাংলাদেশকে ব্রান্ডিং করার জন্য।

বাংলাদেশ ২০১২ সালে শুধু পর্যটন শিল্প দিয়ে ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার রাজস্ব পেয়েছে। ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা এবং এর জন্য বিশেষ বরাদ্দও রাখা হবে বলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে।

পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের সঙ্গে অসংখ্য মানুষ জড়িত। এটি দারিদ্র্য বিমোচনে একটি বড় খাত। পর্যটন একটি বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির শিল্প খাত। বিদেশি পর্যটকরা এখানে এসে যেমন কেনাকাটা করেন, তেমনি থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের জন্যও তাদের ব্যয় করতে হয়।

ফলে নানা পেশার মানুষ পর্যটকদের সুবাদে আয় করার সুযোগ পায়। আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। বেকারের আধিক্যও বেশি। সুতরাং পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে বেকারদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে। পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় সুযোগ-সুবিধা দিলে পর্যটকরা অধিক হারে আকৃষ্ট হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, শুধু দর্শনীয় স্থানের ওপর ভিত্তি করেই পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠে না। পর্যটনের জন্য প্রয়োজন দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি অনুকূল সামাজিক পরিবেশ ও অবকাঠামোগত পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। সরকারকে এ সম্ভাবনাময় শিল্প ব্যবস্থাপনার কথা গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে।

দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অধিক সুবিধা দিয়ে এ শিল্পে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশের প্রতিষ্ঠান বেশি হলে আমাদের লাভ বেশি হবে। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে এ শিল্পকে কাজে লাগাতে পারলে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের প্রয়োজন ১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ২. পর্যটকদের নিরাপত্তারব্যবস্থা। ৩. পর্যটন পুলিশ স্টেশন স্থাপন। ৪. বিমানবন্দর ও নৌবন্দর উন্নয়ন। ৫. পর্যটনকে ব্রান্ডিং। ৬. পর্যটন স্পটে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। ৭. পর্যটন মেলার আয়োজন। ৮. বিদেশি পর্যটকদের জন্য উপযোগী গাইড।

দেশের আনাচে-কানাচে অরক্ষিত ঐতিহ্যতম দর্শনীয় স্থানগুলোকে সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বহু লোকের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

শুধু বিদেশি পর্যটকদের নির্ভরতায় না থেকে ‘দেশকে চিনুন, দেশকে জানুন’; ‘ঘুরে দেখি বাংলাদেশ’ এরকম দেশাত্মক সস্নোগানে দেশের মানুষকে দেশ দেখানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার চালানো দরকার। প্রয়োজন স্কুল ক্যাম্পেইন এবং তরুণ প্রজন্মকে ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলা। পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার।

ট্যুরিস্ট পুলিশ ব্যবস্থা কার্যকর করা দরকার। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বছরে একবার শিক্ষা সফরের আয়োজন বাধ্যতামূলক করা দরকার। নৌভ্রমণ হতে পারে পর্যটনের আরেক পদক্ষেপ। নতুন প্রজন্ম দেশের নদীগুলোকে চিনবে এবং ইতিহাস জানবে। বর্ষা ও শুকনা মৌসুমে দুই বিপরীত রূপের হাওর দর্শন হতে পারে পর্যটনের নতুন আকর্ষণ।

শহরে জন্ম ও শহরে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে গ্রামের সঙ্গে পরিচিত করে তোলাটাও হতে পারে পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র। এ প্রজন্মের অনেকে গাছ চেনে না, মাছ চেনে না। কালবৈশাখী ঝড় কী, বোঝে না। ঝড়ে আম কুড়ানোর স্বাদ পায় না। সাঁতার জানে না। প্রকৃতি-পরিবেশ ও গ্রামবাংলার সঙ্গে এ প্রজন্মের বিরাট ব্যবধান। কৃষি, কৃষক ও গ্রামের মানুষের সরল জীবন দর্শন হতে পারে অভ্যন্তরীণ পর্যটনের উৎস।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক। ইমেইল: writetomukul36@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

বই পড়ার মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: একুশ শতকের গ্রন্থাগার এখন আর কেবল জ্ঞানের সংগ্রহশালাই নয়, ...