অধিকাংশ চলাচলের অযোগ্য

অধিকাংশ চলাচলের অযোগ্য সড়ক

চলাচলের অযোগ্য মধু সড়ক

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :: যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় উপজেলার অধিকাংশ সড়কে অসংখ্যা বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভারি পণ্যবাহী ট্রাক-লরি চলাচল করার সময় সড়কের গর্তে আটকে গিয়ে সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে যাত্রীসহ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ দিকে পানি না নামায় এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, সংস্কারের নামে লুটপাট আর ভুমিদস্যুদের দখলদারিত্বে নাব্যতা হারা হরিহর, ভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদী দিয়ে যথাযত ভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় উপজেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এ বন্যার পানি ধীর গতিতে নামায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

ফলে এখনও ১৬ টি আশ্রায় কেন্দ্র ও সড়কের পাশে ৭ হাজার পরিবার ৫ সপ্তাহ ধরে আশ্রায় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে আর ৫ দিন পরে ঈদুল আজহা। বসত বাড়ি থেকে পানি না নামায় ঘরে ফিরতে পারছে না বন্যার্তরা। ফলে তাদের সড়কের ওপরে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।

এ দিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার কেশবপুর ভায়া সাগরদাঁড়ী সড়ক, কেশবপুর ভায়া বায়সা মোড় সড়ক, কেশবপুর ভায়া চুকনগর সড়ক, কেশবপুর ভায়া পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর ভায়া বড়েঙ্গা সড়ক, কেশবপুর ভায়া চিংড়া সড়ক, কেশবপুর ভায়া ভান্ডারখোলা সড়ক, কলাগাছি ভায়া চুকনগর সড়কসহ অধিকাংশ সড়কে অসংখ্যা বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভারি পণ্যবাহী ট্রাক-লরি চলাচল করার সময় সড়কের গর্তে আটকে গিয়ে সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পথচারীসহ হাটুরেদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ দিকে সবচেয়ে বেশী গুনুত্বপূর্ণ কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়কটির অবস্থা একেবারে বেহাল। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পৌরসভার একাংশ, মজিদপুর, হাসানপুর, বিদ্যানন্দকাটি ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করেন। সাতক্ষীরা যেতে হাইওয়ের চেয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ কম হওয়ায় যশোর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য বাহন এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে থাকে।

এছাড়া মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি ভক্তরা শিক্ষা সফর, বনভোজনে আসায় সড়কটি সবচেয়ে বেশী গুনুত্বপূর্ণ। এ সড়কটি বর্তমান পায়ে হাটারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কেশবপুর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, মধুসড়ক আপদকালীন সংস্কারের জন্য একটি প্রাক্কলন তৈরী করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংস্কার করা সম্ভব হবে।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকার ৪ হাজার৪০০ পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দিন জানান, তার ইউনিয়েেনর ২ হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট :: মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম লঙ্ঘন করে কাজ করার অভিযোগে ...